আগামী প্রজন্মের কাছে ইতিহাস ও সংস্কৃতির পাঠশালা হয়ে উঠবে পিলাক: রাজ্যপাল
শান্তিরবাজার, ৮ জানুয়ারি: দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক কেন্দ্র পিলাককে আগামী প্রজন্মের জন্য ইতিহাস ও সভ্যতার প্রধান পাঠশালা হিসেবে অভিহিত করলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। গতকাল পশ্চিম পিলাক দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের মাঠে তিনদিনব্যাপী ‘পিলাক প্রত্ন ও পর্যটন উৎসব’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
হিন্দু-বৌদ্ধ সংস্কৃতির মিলনস্থল
উদ্বোধকের ভাষণে রাজ্যপাল বলেন, “পিলাক কেবল একটি প্রত্নস্থল নয়, এটি হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের এক অনন্য মিলনস্থল।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই কেন্দ্রটি দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি বিনিময়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমনে গ্রামীণ অর্থনীতির মানোন্নয়ন ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং স্থানীয় হস্তকারু শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধির পরামর্শ দেন।
মেলার উদ্দেশ্য কেবল বেচাকেনা নয়
রাজ্যপালের মতে, মেলার উদ্দেশ্য কেবল দোকান খোলা বা পণ্য কেনাবেচা নয়; বরং মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করা, পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা এবং খেলাধুলায় উৎসাহদানের মাধ্যমে স্বরোজগারী করে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া রাজ্যপালকে পিলাক স্মারক ও সূর্যমূর্তি দিয়ে বরণ করে নেন।
পর্যটন কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ
সম্মানিত অতিথির ভাষণে সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া জানান, পিলাক উৎসব রাজ্যের গর্ব। তিনি ঘোষণা করেন যে, ভারত সরকারের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় পিলাক পর্যটন কেন্দ্রকে আরও আকর্ষণীয় করা হবে এবং পর্যটন আবাসকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উৎসবের মহিমা
অনুষ্ঠানে ২০টি সরকারি দপ্তর তাদের উন্নয়নমূলক তথ্য নিয়ে প্রদর্শনী মণ্ডপ খুলেছে। তিনদিনব্যাপী এই উৎসবে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি বহির্রাজ্যের শিল্পীরাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন। অনুষ্ঠানে বিধায়ক মাইলায়ু মগ, দক্ষিণ ত্রিপুরার জেলাশাসক মহ: সাজ্জাদ পি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
